পাতা

অফিস সম্পর্কিত

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, টাঙ্গাইল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এর অধীন ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি রেকর্ড ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ৷ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ১৯ টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস রয়েছে৷ টাঙ্গাইল জোন তার একটি৷ টাঙ্গাইল জোনটি ময়মনসিংহ জোন হতে পৃথক হয়ে         ২৫-০৯-১৯৮৬ তারিখে যাত্রা শুরু করে ৷ এই জোনটি শুধু মাত্র টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত ৷ এই জেলায় ১২ টি উপজেলা রয়েছে৷ ধনবাড়ী ব্যতীত সকল উপজেলায় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের অফিস রয়েছে৷ ফলে টাঙ্গাইল জোন ১১ টি উপজেলা অফিস ও জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস হতে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে৷

টাঙ্গাইল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের মূল কাজ হলো চলমান আর এস (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) জরিপের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সকল শ্রেণীর ভূমি মালিকগণের ভূমির মৌজা ভিত্তিক রেকর্ড (খতিয়ান) এবং নকশা প্রণয়ন করা৷ বর্তমানে চলমান আরএস জরিপের কার্যক্রম অনেকটাই শেষ পর্যায়ে৷ চলমান জরিপের কার্যক্রম সমাপ্তির পর পরবর্তী জরিপের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে৷ পরবর্তী জরিপ হবে বর্তমান সরকারের গৃহীত ও ব্যাপক জনসমাদৃত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজটাল জরিপ৷ ডিজিটাল জরিপ পদ্ধতিতে অতিস্বল্প সময়ে এবং নিভুলভাবে খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুত করে ভূমি মালিকগণের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে৷

 

এই ওয়েব সাইটটি ব্যবহারে ভূমি মালিকগণ অনেক উপকৃত হবেন বলে আশা রাখি৷ ওয়েব সাইটি উন্নয়নাধীন এটি হাল-নাগাদ ক্রমে ব্যবহার ও সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি৷

 

 

 

 

টাঙ্গাইল জেলার নামকরণের পটভূমি

টাঙ্গাইল জেলার নামকরণ টাঙ্গাইল জেলার নামকরণঃ বিষয়ে রয়েছে বহুজনশ্রুতি ও নানা অভিমত৷ ইংরেজ নকশাবিদ জন রেনেল এঁর ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত মানচিত্রে এ অঞ্চলকে আটিয়া বলে দেখানো হয়েছে৷ ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায় না৷ টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫ নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে মহকুমা সদর দপ্তর আটিয়া থেকে টাঙ্গাইলে স্থানানত্মরের সময় থেকে৷ টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম এঁর মতে, ইংরেজ আমলে এ দেশের লোকেরা উচু শব্দের পরির্বেত "টান" শব্দ ব্যবহারে অভ্যসত্ম ছিল৷ এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে "টান" শব্দের প্রচলন আছে৷ এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত৷ আর সেই টান ও আইল কালক্রমে রূপানত্মরিত হয়েছে টাঙ্গাইলে৷

আরেক জনশ্রম্নতি মতে নীলকর টেংগু সাহেবের গল্পই সবচেয়ে বেশী প্রচলিত৷ বৃটিশ শাসনের প্রারম্ভে আকুরটাকুর ও শাহবালিয়া মৌজার মধ্যবতী এলাকায় টেংগু সাহেবের নীল চাষ ও নীলের কারখানা ছিল৷ এই দুই মৌজার সীমানা বরাবর তিনি যাতায়াতের জন্য উচু মেঠোপথ বা আইল তৈরী করেছিলেন, সাধারণ মানুষ এই আইলকে টেংগু সাহেবের আইল বলে উল্লেখ করতো৷ সুতরাং অনুমান করা হয় যে, টাঙ্গাইল শব্দটি টেংগু সাহেবের আইল নামেরই অপভ্রংশ৷ কারো কারো মতে, বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিয়াকে আশ্রয় করে এই অঞ্চল জম-জমাট হয়ে উঠে৷ সে সময়ে ঘোড়ার গাড়ি ছিল যাতায়াতের একমাত্র বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলের স্থানীয় লোকেরা বলত "টাঙ্গা"৷ এছাড়া এ শব্দটির সঙ্গে এ অঞ্চলের আল কালক্রমে শব্দটির যোগ লক্ষ্য করা যায়৷ এভাবে টাঙ্গাওয়ালাদের বাসস্থানের সঙ্গে আল কালক্রমে আইল শব্দকে যোগ "টাঙ্গাইল" শব্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷ মুফাখখারুল ইসলামের মতে, কাগমারি পরগণার জমিদার ইনশানাতুল্লাহ খাঁ চৌধুরী (১৭০৭-১৭২৭ খ্রি) লৌহজং নদীর টানের আইল দিয়া কাগমারী হতে আধামাইল দূরে খুশনুদপুর (খুশির জায়গা যার সংস্কৃতায়ন সনত্মোষ) তাঁর সদর কাচারিতে যাতায়াত করতেন৷ তার যাতায়াতের আইল বা টান আইল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হতে হতে টাঙ্গাইল নামকরণ হয়েছে৷

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ঃ টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ৷ টাঙ্গাইল বহু অতীত ঐতিহ্য আর বাংলার চির পরিচিত লোক-সংস্কৃতি ইতিহাসের উত্তরাধিকারী৷ প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য আর লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান অনেক উঁচুতে৷ টাঙ্গাইলে লোক -ঐতিহ্য নিয়েও রচিত হয়েছে প্রবাদ বচন৷ যেমন 'চমচম, টমটম ও শাড়ি, এই তিনে টাঙ্গাইলের বাড়ি'৷

তাঁত শিল্প ঃ বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ইতিহাস অতি প্রাচীন৷ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলার তাত শিল্প সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার৷ এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে এদেশের সংস্কৃতি৷ টাঙ্গাইলের তাতের শাড়ী দেশে বিদেশে সুখ্যাত৷ টাঙ্গাইলের চমচম স্বাদ আর স্বাতন্ত্রে দেশে বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে৷ যমুনা নদীর ওপর গর্ব করার মত দেশের সর্ববৃহত্‍ সেতু, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু, টাঙ্গাইলের আরেক অহংকার৷ এছাড়াও টাঙ্গাইল জেলা শিল্পসাহিত্য চচর্ায় দেশের অগ্রগণ্য জেলা সমূহের অন্যতম৷

 

 

টাঙ্গাইলের ভৌগলিক অবস্থান ও অন্যান্য মৌলিক তথ্যাদি ঃ

টাঙ্গাইল জেলা রাজধানী ঢাকা হতে একশত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ এ জেলার পূর্বে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলা, পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলা, উত্তরে জামালপুর জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলা৷

আয়তন ঃ ৩৪১৪.৩৫ বর্গ কিলোমিটার৷

অবস্থান ঃ টাঙ্গাইল জেলা ২৩্#৯৫৬; ৫৯র্ ৫০ক্ষ্ম উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৪ক্ক ৪র্৮ ৫১ক্ষ্ম উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯ক্ক ৪র্৮ ৫০ক্ষ্ম পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৯০্#৯৫৬; ৫র্১ ২৫ক্ষ্ম দ্রাঘিমায় অবস্থিত৷

উপজেলা ঃ টাঙ্গাইলে রয়েছে ১২ টি উপজেলা৷ উপজেলাগুলো হলো ঃ টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, কালিহাতী, মির্জাপুর, ভূয়াপুর, বাসাইল, সখিপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ী৷

পৌরসভা ঃ টাঙ্গাইল জেলায় পৌরসভা রয়েছে ১১টি (টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, কালিহাতী, এলেঙ্গ, ভূয়াপুর, মির্জাপুর, বাসাইল, সখিপুর, ধনবাড়ী৷

ইউনিয়ন  ১১০ টি৷

গ্রাম ঃ ২৫১৬ টি৷

মৌজা ঃ ১৯৯৬ টি৷

নদ-নদী ঃ যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী, লৌহজং, খিরম্ন, যুগনী, ফটিকজানি, এলংজানি, লাঙ্গুরিয়া ও ঝিনাই অন্যতম৷

জনসংখ্যা ঃ ৩৬,০৫,০৮৩ জন (পুরুষ ঃ ১৭,৫৭,৩৭০ জন, মহিলা ঃ ১৬,৬৯,৭৯৪ জন (২০১১ সনের আদম শুমারী তথ্যমতে)৷

শিক্ষার হার  ৪৬.৮% শতাংশ৷

সংসদীয় আসন  ০৮ টি, মধুপুর ও ধনবাড়ী মিলে সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-১, গোপালপুর ও ভূয়াপুর মিলে টাঙ্গাইল-২, ঘাটাইল নিয়ে টাঙ্গাইল-৩, কালিহাতী নিয়ে টাঙ্গাইল-৪, টাঙ্গাইল সদর নিয়ে টাঙ্গাইাল-৫, নাগরপুর ও দেলদুয়ার নিয়ে টাঙ্গাইল -৬, মিপুর নিয়ে টাঙ্গাইল-৭, বাসাইল ও সখিপুর নিয়ে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসন গঠিত৷

 

 

 

 

 

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, টাঙ্গাইল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এর অধীন ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি রেকর্ড ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ৷ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ১৯ টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস রয়েছে৷ টাঙ্গাইল জোন তার একটি৷ টাঙ্গাইল জোনটি ময়মনসিংহ জোন হতে পৃথক হয়ে         ২৫-০৯-১৯৮৬ তারিখে যাত্রা শুরু করে ৷ এই জোনটি শুধু মাত্র টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত ৷ এই জেলায় ১২ টি উপজেলা রয়েছে৷ ধনবাড়ী ব্যতীত সকল উপজেলায় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের অফিস রয়েছে৷ ফলে টাঙ্গাইল জোন ১১ টি উপজেলা অফিস ও জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস হতে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে৷

টাঙ্গাইল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের মূল কাজ হলো চলমান আর এস (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) জরিপের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সকল শ্রেণীর ভূমি মালিকগণের ভূমির মৌজা ভিত্তিক রেকর্ড (খতিয়ান) এবং নকশা প্রণয়ন করা৷ বর্তমানে চলমান আরএস জরিপের কার্যক্রম অনেকটাই শেষ পর্যায়ে৷ চলমান জরিপের কার্যক্রম সমাপ্তির পর পরবর্তী জরিপের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে৷ পরবর্তী জরিপ হবে বর্তমান সরকারের গৃহীত ও ব্যাপক জনসমাদৃত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজটাল জরিপ৷ ডিজিটাল জরিপ পদ্ধতিতে অতিস্বল্প সময়ে এবং নিভুলভাবে খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুত করে ভূমি মালিকগণের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে৷

 

এই ওয়েব সাইটটি ব্যবহারে ভূমি মালিকগণ অনেক উপকৃত হবেন বলে আশা রাখি৷ ওয়েব সাইটি উন্নয়নাধীন এটি হাল-নাগাদ ক্রমে ব্যবহার ও সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি৷

 

 

 

 

টাঙ্গাইল জেলার নামকরণের পটভূমি

টাঙ্গাইল জেলার নামকরণ টাঙ্গাইল জেলার নামকরণঃ বিষয়ে রয়েছে বহুজনশ্রুতি ও নানা অভিমত৷ ইংরেজ নকশাবিদ জন রেনেল এঁর ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত মানচিত্রে এ অঞ্চলকে আটিয়া বলে দেখানো হয়েছে৷ ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায় না৷ টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫ নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে মহকুমা সদর দপ্তর আটিয়া থেকে টাঙ্গাইলে স্থানানত্মরের সময় থেকে৷ টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম এঁর মতে, ইংরেজ আমলে এ দেশের লোকেরা উচু শব্দের পরির্বেত "টান" শব্দ ব্যবহারে অভ্যসত্ম ছিল৷ এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে "টান" শব্দের প্রচলন আছে৷ এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত৷ আর সেই টান ও আইল কালক্রমে রূপানত্মরিত হয়েছে টাঙ্গাইলে৷

আরেক জনশ্রম্নতি মতে নীলকর টেংগু সাহেবের গল্পই সবচেয়ে বেশী প্রচলিত৷ বৃটিশ শাসনের প্রারম্ভে আকুরটাকুর ও শাহবালিয়া মৌজার মধ্যবতী এলাকায় টেংগু সাহেবের নীল চাষ ও নীলের কারখানা ছিল৷ এই দুই মৌজার সীমানা বরাবর তিনি যাতায়াতের জন্য উচু মেঠোপথ বা আইল তৈরী করেছিলেন, সাধারণ মানুষ এই আইলকে টেংগু সাহেবের আইল বলে উল্লেখ করতো৷ সুতরাং অনুমান করা হয় যে, টাঙ্গাইল শব্দটি টেংগু সাহেবের আইল নামেরই অপভ্রংশ৷ কারো কারো মতে, বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিয়াকে আশ্রয় করে এই অঞ্চল জম-জমাট হয়ে উঠে৷ সে সময়ে ঘোড়ার গাড়ি ছিল যাতায়াতের একমাত্র বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলের স্থানীয় লোকেরা বলত "টাঙ্গা"৷ এছাড়া এ শব্দটির সঙ্গে এ অঞ্চলের আল কালক্রমে শব্দটির যোগ লক্ষ্য করা যায়৷ এভাবে টাঙ্গাওয়ালাদের বাসস্থানের সঙ্গে আল কালক্রমে আইল শব্দকে যোগ "টাঙ্গাইল" শব্দের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন৷ মুফাখখারুল ইসলামের মতে, কাগমারি পরগণার জমিদার ইনশানাতুল্লাহ খাঁ চৌধুরী (১৭০৭-১৭২৭ খ্রি) লৌহজং নদীর টানের আইল দিয়া কাগমারী হতে আধামাইল দূরে খুশনুদপুর (খুশির জায়গা যার সংস্কৃতায়ন সনত্মোষ) তাঁর সদর কাচারিতে যাতায়াত করতেন৷ তার যাতায়াতের আইল বা টান আইল দীর্ঘদিন ধরে উচ্চারিত হতে হতে টাঙ্গাইল নামকরণ হয়েছে৷

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ঃ টাঙ্গাইল একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ৷ টাঙ্গাইল বহু অতীত ঐতিহ্য আর বাংলার চির পরিচিত লোক-সংস্কৃতি ইতিহাসের উত্তরাধিকারী৷ প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য আর লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান অনেক উঁচুতে৷ টাঙ্গাইলে লোক -ঐতিহ্য নিয়েও রচিত হয়েছে প্রবাদ বচন৷ যেমন 'চমচম, টমটম ও শাড়ি, এই তিনে টাঙ্গাইলের বাড়ি'৷

তাঁত শিল্প ঃ বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ইতিহাস অতি প্রাচীন৷ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলার তাত শিল্প সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার৷ এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে এদেশের সংস্কৃতি৷ টাঙ্গাইলের তাতের শাড়ী দেশে বিদেশে সুখ্যাত৷ টাঙ্গাইলের চমচম স্বাদ আর স্বাতন্ত্রে দেশে বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে৷ যমুনা নদীর ওপর গর্ব করার মত দেশের সর্ববৃহত্‍ সেতু, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু, টাঙ্গাইলের আরেক অহংকার৷ এছাড়াও টাঙ্গাইল জেলা শিল্পসাহিত্য চচর্ায় দেশের অগ্রগণ্য জেলা সমূহের অন্যতম৷

 

 

টাঙ্গাইলের ভৌগলিক অবস্থান ও অন্যান্য মৌলিক তথ্যাদি ঃ

টাঙ্গাইল জেলা রাজধানী ঢাকা হতে একশত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ এ জেলার পূর্বে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলা, পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলা, উত্তরে জামালপুর জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও মানিকগঞ্জ জেলা৷

আয়তন ঃ ৩৪১৪.৩৫ বর্গ কিলোমিটার৷

অবস্থান ঃ টাঙ্গাইল জেলা ২৩্#৯৫৬; ৫৯র্ ৫০ক্ষ্ম উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৪ক্ক ৪র্৮ ৫১ক্ষ্ম উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯ক্ক ৪র্৮ ৫০ক্ষ্ম পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৯০্#৯৫৬; ৫র্১ ২৫ক্ষ্ম দ্রাঘিমায় অবস্থিত৷

উপজেলা ঃ টাঙ্গাইলে রয়েছে ১২ টি উপজেলা৷ উপজেলাগুলো হলো ঃ টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, কালিহাতী, মির্জাপুর, ভূয়াপুর, বাসাইল, সখিপুর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ী৷

পৌরসভা ঃ টাঙ্গাইল জেলায় পৌরসভা রয়েছে ১১টি (টাঙ্গাইল সদর, মধুপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, কালিহাতী, এলেঙ্গ, ভূয়াপুর, মির্জাপুর, বাসাইল, সখিপুর, ধনবাড়ী৷

ইউনিয়ন  ১১০ টি৷

গ্রাম ঃ ২৫১৬ টি৷

মৌজা ঃ ১৯৯৬ টি৷

নদ-নদী ঃ যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী, লৌহজং, খিরম্ন, যুগনী, ফটিকজানি, এলংজানি, লাঙ্গুরিয়া ও ঝিনাই অন্যতম৷

জনসংখ্যা ঃ ৩৬,০৫,০৮৩ জন (পুরুষ ঃ ১৭,৫৭,৩৭০ জন, মহিলা ঃ ১৬,৬৯,৭৯৪ জন (২০১১ সনের আদম শুমারী তথ্যমতে)৷

শিক্ষার হার  ৪৬.৮% শতাংশ৷

সংসদীয় আসন  ০৮ টি, মধুপুর ও ধনবাড়ী মিলে সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-১, গোপালপুর ও ভূয়াপুর মিলে টাঙ্গাইল-২, ঘাটাইল নিয়ে টাঙ্গাইল-৩, কালিহাতী নিয়ে টাঙ্গাইল-৪, টাঙ্গাইল সদর নিয়ে টাঙ্গাইাল-৫, নাগরপুর ও দেলদুয়ার নিয়ে টাঙ্গাইল -৬, মিপুর নিয়ে টাঙ্গাইল-৭, বাসাইল ও সখিপুর নিয়ে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসন গঠিত৷

 

 

জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, টাঙ্গাইল, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এর অধীন ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি রেকর্ড ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ৷ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ১৯ টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস রয়েছে৷ টাঙ্গাইল জোন তার একটি৷ টাঙ্গাইল জোনটি ময়মনসিংহ জোন হতে পৃথক হয়ে         ২৫-০৯-১৯৮৬ তারিখে যাত্রা শুরু করে ৷ এই জোনটি শুধু মাত্র টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত ৷ এই জেলায় ১২ টি উপজেলা রয়েছে৷ ধনবাড়ী ব্যতীত সকল উপজেলায় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের অফিস রয়েছে৷ ফলে টাঙ্গাইল জোন ১১ টি উপজেলা অফিস ও জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস হতে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে৷

টাঙ্গাইল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের মূল কাজ হলো চলমান আর এস (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) জরিপের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং সকল শ্রেণীর ভূমি মালিকগণের ভূমির মৌজা ভিত্তিক রেকর্ড (খতিয়ান) এবং নকশা প্রণয়ন করা৷ বর্তমানে চলমান আরএস জরিপের কার্যক্রম অনেকটাই শেষ পর্যায়ে৷ চলমান জরিপের কার্যক্রম সমাপ্তির পর পরবর্তী জরিপের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে৷ পরবর্তী জরিপ হবে বর্তমান সরকারের গৃহীত ও ব্যাপক জনসমাদৃত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজটাল জরিপ৷ ডিজিটাল জরিপ পদ্ধতিতে অতিস্বল্প সময়ে এবং নিভুলভাবে খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুত করে ভূমি মালিকগণের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে৷

 

 

 

ছবি

4512.JPG 4512.JPG


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter